শেখ রাসেল রচনা | শেখ রাসেল আমাদের বন্ধু রচনা

প্রিয় বন্ধু আজ আমাদের বিষয় “শেখ রাসেল রচনা”। শেখ রাসেল বাংলাদেশের সকল তরুণের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক নাম। সে শুধুমাত্র আমাদের জাতির পিতার সন্তান হিসেবেই নয়, একজন আদর্শ, মানবতার বোধ সম্পন্ন শিশু হিসেবে সে আমাদের প্রতিজন শিশুর বন্ধ। তাই শেখ রাসেল আমাদের বন্ধু রচনা নিয়ে আলোচনা।

শেখ রাসেল রচনা

সাইকেল চালাচ্ছে শেখ রাসেল
সাইকেল চালাচ্ছে শেখ রাসেল

 

শেখ রাসেল আমাদের বন্ধু রচনা

ভূমিকা

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যাবে অনেক বড় বড় ব্যক্তির নাম কিন্তু বিশ্বসম্মোহনীদের নামের তালিকা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান সর্বাগ্রে । তিনি স্বাধীন বাংলার স্থাপত্য । তিনি মহিমাময় ‘ রাজনীতির কবি ‘ । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি নাম , একটি আদর্শ । তাই বাঙালি জাতি তাঁকে ‘ জাতির জনক ‘ হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে । তিনি বাংলাদেশ ও বাঙালির জাতির গর্ব ও অহংকারের প্রতীক তেমনি শেখ রাসেল ও আমাদের গর্ব ও অহংকারের প্রতীক । শেখ রাসেল বঙ্গবন্ধু বংশের শুধু প্রদীপ নয় , সে ছিল বাঙালি জাতির প্রদীপ এবং এই বাংলার একটি নক্ষত্র ছিল ।

শেখ হাসিনার কোলে ছোটভাই শেখ রাসেল
শেখ হাসিনার কোলে ছোটভাই শেখ রাসেল

শেখ রাসেলের জন্ম

তখন হেমন্তকাল , সময়টা ১৮ ই অক্টোবর ১৯৬৪ । নবান্নের নতুন ফসলের উৎসবে আগমন নতুন অতিথির । এযেন বাঙালির আনন্দ , বাংলার আনন্দ । ধানমন্ডি সেই ঐতিহাসিক ও ভয়ানক ৩২ নম্বর রোডের বাসায় ‘ শেখ হাসিনার ‘ রুমেই রাত দেড়টার সময় রাসেলের জন্ম হয় । রাসেলের আগমনে পুরো বাড়ি জুড়ে বয়ে যায় আনন্দের জোয়ার । একটু বড়োসড়ো হয়েছিল শিশু রাসেল । জন্মের কিছুক্ষণ পর পরিবারের সবাইকে রাসেলের কথা জানানো হয় । পরে বোন শেখ হাসিনা এসে , তার ওড়না দিয়ে ভেজা মাথা পরিষ্কার করে দেন ।

শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, শেখ জামাল ও শেখ কামালের কোলে শেখ রাসেল
শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, শেখ জামাল ও শেখ কামালের কোলে শেখ রাসেল

রাসেলের নামকরণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছিলেন বিখ্যাত নোবেল বিজয়ী দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের ভক্ত । তাঁর অনেক বই তিনি পড়েছেন । বার্ট্রান্ড রাসেল কেবল মাত্র একজন দার্শনিকই ছিলেন না বিজ্ঞানীও ছিলেন । বার্ট্রান্ড রাসেল ছিলেন পারমাণবিক যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলনের একজন বড় মাপের বিশ্ব নেতাও । বিশ্ব শান্তি রক্ষার জন্য বার্ট্রান্ড রাসেল গঠন করেছিলেন- ” কমিটি অফ হান্ড্রেড ” । রাসেলের জন্ম দু’বছর পূর্বেই ১৯৬২ সালে কিউবাকে কেন্দ্র করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কেনেডি এবং সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী ক্রুশ্চেফ এর মধ্যে স্নায়ু ও কূটনৈতিক যুদ্ধ চলছিল । যেটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল , ঠিক তখনই বিশ্ব মানবতার প্রতীক হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন বিখ্যাত দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল । আর তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বঙ্গবন্ধু তার কনিষ্ঠ পুত্রের নামকরণ করেন রাসেল ।

শেখ হাসিনা, বেগম মুজিবের কোলে শেখ রাসেল
শেখ হাসিনা, বেগম মুজিবের কোলে শেখ রাসেল

প্রাথমিক জীবন

শেখ রাসেল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকা অঞ্চলের ধানমন্ডিতে ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবনে ১৮ ই অক্টোবর , ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন । পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে রাসেল সর্বকনিষ্ঠ । ভাই – বোনের মধ্যে অন্য এক জন হলেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা , ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক শেখ কামাল , বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা শেখ জামাল এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ শেখ রেহানা।শেখ রাসেল ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন ।
হত্যাকাণ্ড

১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট প্রত্যুষে একদল তরুণ সেনা কর্মকর্তা ট্যাঙ্ক দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর বাসভবন ঘিরে ফেলে শেখ মুজিব , তার পরিবার এবং তার ব্যক্তিগত কর্মচারীদের সাথে শেখ রাসেলকেও হত্যা করা হয়।শেখ মুজিবের নির্দেশে রাসেলকে নিয়ে পালানোর সময় ব্যক্তিগত কর্মচারীসহ রাসেলকে অভ্যুত্থানকারীরা আটক করে । আতঙ্কিত হয়ে শিশু রাসেল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন:

” আমি মায়ের কাছে যাব “

পরবর্তীতে মায়ের লাশ দেখার পর অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মিনতি করেছিলেন:

” আমাকে হাসু আপার ( শেখ হাসিনা ) কাছে পাঠিয়ে দাও “

ব্যক্তিগত কর্মচারী এএফএম মহিতুল ইসলামের ভাষ্যমতে:

” রাসেল দৌড়ে এসে আমাকে জাপটে ধরে । আমাকে বললো , ভাইয়া আমাকে মারবে না তো ? ওর সে কণ্ঠ শুনে আমার চোখ ফেটে পানি এসেছিল । এক ঘাতক এসে আমাকে রাইফেলের বাট দিয়ে ভীষণ মারলো । আমাকে মারতে দেখে রাসেল আমাকে ছেড়ে দিল । ও ( শেখ রাসেল ) কান্নাকাটি করছিল যে ‘ আমি মায়ের কাছে যাব , আমি মায়ের কাছে যাব ‘ । এক ঘাতক এসে ওকে বললো , ‘ চল তোর মায়ের কাছে দিয়ে আসি । বিশ্বাস করতে পারিনি যে ঘাতকরা এতো নির্মমভাবে ছোট্ট সে শিশুটাকেও হত্যা করবে । রাসেলকে ভিতরে নিয়ে গেল এবং তারপর ব্রাশ ফায়ার । “

শেখ রেহানার সাথে শেখ রাসেল
শেখ রেহানার সাথে শেখ রাসেল

শেখ রাসেল কেন আমাদের বন্ধু

রাসেল আমাদের বন্ধু। বন্ধু কারণ রাসেলের মানবিক গুন। বন্ধু কারণ রাসেলের সংবেদনশীল মন। বন্ধু কারণ সব কিছুর জন্য রাসেলের ভালোবাসো। আজ রাসেলের জীবনের কিছু ঘটনা উল্লেখ করবো, যাতে আমরা সেসব সম্পর্কে জানতে পারবো।

১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনের পর থেকেই রাজবন্দী হিসেবে জেলে ছিলেন রাসেলের বাবা। কারাগারে দেখা করার সময় রাসেল কিছুতেই তার বাবাকে রেখে আসবে না। এ কারণেই তার মন খারাপ থাকতো। পরিবারের সকলেই চাইতো রাসেলের মন যেন কোন কারণে খারাপ না হয়। রাসেলের আম্মা রাসেলকে একটা তিন চাকার সাইকেল কিনে দিয়েছিল। এবং সাইকেলটি রাসেলের খুব প্রিয় ছিল ও সর্বক্ষণ খেলাধূলায় ব্যস্ত থাকতো।

রাসেলের চরিত্রে আভিজাত্যের ছোঁয়া ছিল, গাম্ভীর্যতাও লক্ষ্য করা গেছে। পরিস্থিতি এবং সময়ের দাবি মিটিয়ে রাসেল তাল মিলিয়ে চলেছেন। বাড়িতে দুষ্টুমি করত সবসময়, কিন্তু রাষ্ট্রীয় সফরে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন সর্বদাই। অনুষ্ঠান এবং পরিস্থিতির সাথে মিল রেখেই পোশাক পরিধান করতেন ছোট্ট শিশু রাসেল। সচরাচর প্রিন্স কোট, সাদা পাজামা-পাঞ্জাবী ও মুজিবকোট পরত রাসেল। বঙ্গবন্ধুর পোশাক পরিধানেও মাঝে মধ্যেও নজরদারি করতেন ছোট্ট শেখ রাসেল।

শেখ রেহানা, বঙ্গবন্ধু ও শেখ রাসেল
শেখ রেহানা, বঙ্গবন্ধু ও শেখ রাসেল

শেখ রেহানার বর্ণনামতে জানা যায়, একবার বঙ্গবন্ধু বন্যার্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন সে সময়ে বঙ্গবন্ধুর পোশাক, পায়ের স্যান্ডেল কী হবে ঠিক করে দিয়েছিলেন শেখ রাসেল। পরিবারের অন্যদের ভাল-মন্দের বিষয়ে নজরদারি করতেন শেখ রাসেল।

রাসেল ৪ বছর বয়সে প্রথমে স্কুলে যাওয়া শুরু করে। প্রথম দিকে পরিবারের কাউকে না কাউকে স্কুলে দিয়ে আসতে হত। ধীরে ধীরে নিজেই আগ্রহ নিয়ে স্কুলে যেত এবং স্কুলে তার বেশ কিছু বন্ধুও জুটেছিল। বন্ধুবৎসল ছিল রাসেল। পর্যায়ক্রমে পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে উঠে রাসেল। নিজেই পড়তে বসত এবং স্কুলে একাই যেত।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে শেখ রাসেলের জন্য একজন গৃহশিক্ষিকা রাখা হয়। শেখ হাসিনার বরাতে জানা যায়, শিক্ষিকাকে খুব সম্মান করতেন শেখ রাসেল। খুব দুষ্ট প্রকৃতির ছিল তাই শিক্ষককে রাসেলের কথা শুনতে হত নইলে সে পড়াশোনায় মনোযোগী হত না। তাই শিক্ষিকাও রাসেলের কথা অনুযায়ী শিক্ষা দান করতেন। শিক্ষিকার খাবার-দাবারের ব্যাপারে খুব সচেতন ছিল শেখ রাসেল। প্রত্যেকদিন শিক্ষিকার জন্য দুটি করে মিস্টি বরাদ্দ থাকতো এবং শিক্ষিকাকে তা খেতে হত রাসেলের ইচ্ছানুযায়ী।

শেখ কামাল. বঙ্গবন্ধু, বেগম মুজিব, শেখ জামালের সাথে শেখ রাসেল
শেখ কামাল. বঙ্গবন্ধু, বেগম মুজিব, শেখ জামালের সাথে শেখ রাসেল

রাসেলের বড় বোন বঙ্গবন্ধু পরিবারের জীবিত সদস্য শেখ রেহানা রাসেলকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন,

মা বলতেন, লক্ষ্মী মেয়ে হয়ে থেকো, তাহলে তোমাকে একটা ছোট্ট বাবু এনে দেব। মার কথামতো লক্ষ্মী মেয়ে হয়ে থাকার চেষ্টা করতাম। গভীর আগ্রহ নিয়ে বসে থাকতাম কখন মা আমাকে একটা বাবু এনে দেবে। রাসেলের জন্ম হয় অনেক রাতে। আমি ঘুমিয়েছিলাম। আমার মেজফুফু ঘুম ভাঙিয়ে বললেন, জলদি ওঠ, তোমার ভাই হয়েছে। জন্মের পরে ওকে আমার মনে হয়েছিল একটা পুতুল। কী সুন্দর হাসে, আবার কাঁদেও। রাসেল একটু একটু করে বড় হয়ে ওঠে। মা ও আব্বা নাম রাখলেন রাসেল।স্কুলের নাম ছিল শেখ রিসালউদ্দীন। হাসু আপা ওকে কোলে করে কত গান শোনাত, কত কবিতা শোনাত। কামাল ভাই আর জামাল ভাইও কোলে নিত। আমিও নিতাম। ভয়ও করতাম যদি পড়ে যায়। যদি ব্যথা পায়। ওর খুব কষ্ট হবে।

এভাবেই সকলে রাসেলের প্রতি বিশেষ যত্নআত্নি করত,এখনো রাসেলের বোনেরা রাসেলের কথা স্মরণ করে স্মৃতিকাতর হয়ে যায়, ফিরে যায় রাসেলের শৈশবের দিনগুলিতে।

অতিথিদের সাথে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বোন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পরিবারের অন্যেরা
অতিথিদের সাথে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বোন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পরিবারের অন্যেরা

প্রয়াত সংসদ সদস্য, সাংবাদিক এবং শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী বেবি মওদুদের লেখনির মাধ্যমে জানা যায়, “রাসেল একদিন মাকে জিজ্ঞেস করে :

মা আব্বার কাছে যাবে না?

মা কোন উত্তর দেন না। শুধু তাকে বুকের কাছে টেনে আদর করেন। রাসেল আবার জিজ্ঞেস করে:

মা , আব্বার নাকি ফাঁসি হবে। ফাঁসি কি মা?

মা বলেন:

কে বলেছে তোমাকে এ কথা?

রাসেল উত্তর দেয়:

সেদিন কাকা আর দুলাভাই, কামাল ভাই বলছিল, আমি শুনেছি মা।

এমন রাজনৈতিক সচেতন ছিল শেখ রাসেল এবং কারাগারে বাবার সাথে সাক্ষাতের সময় জয় বাংলা বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিল এবং বাবার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মাঝে মধ্যে ঝাঁঝালো উক্তি প্রদান করতেন।

সামাজিকভাবে ও সে বিশেষ বন্ধুমহল গড়ে তুলেছিল। বাড়ির আশেপাশে অনেকের সাথে সে খেলাধূলা করত এবং বিকালে স্কুল হতে ফেরত এসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিত।মাত্র ১০ বছর বয়সে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয় শেখ রাসেল। অথচ এ বাচ্চা ছেলেটির উপর জিঘাংসামূলক আচরণ করেছে খুনিচক্র, সবার সামনে দিয়ে হেঁটে নেওয়ার পর অর্থাৎ লাশের সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরে গুলি করে ঝাঁঝড়া করে দেওয়া হয় কোমল দেহখানি। নিষ্পাপ এ ছেলেটির বুকে গুলি চালাতে একটুও হাত কাঁপেনি খুনিচক্রের।

ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্
ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্

অথচ ছেলেটি বাঁচার জন্য কত আকুতি জানিয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ওয়াজেদ মিয়ার ভাষ্যমতে; রাসেল ঘৃণিত আর্মিদের বলেছিলেন:

আল্লাহর দোহাই, আমাকে জানে মেরে ফেলবেন না। বড় হয়ে আমি আপনাদের বাসায় কাজের ছেলে হিসেবে থাকবো। আমার হাসু আপা দুলাভাইয়ের সাথে জার্মানিতে আছেন। আমি আপনাদের পায়ে পড়ি, দয়া করে আপনারা আমাকে জার্মানিতে হাসু আপা ও দুলাভাই-এর কাছে পাঠিয়ে দিন।

এমন আকুতি স্বত্ত্বেও ছোট্ট বাচ্চাটিকে রেহাই দেয়নি খুনিচক্র।সেই খুনিদের বর্তমান সরকার ফাঁসির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে, ইতিমধ্যে কয়েকজনের ফাঁসিও হয়েছে বাকি কয়েকজন বিভিন্ন দেশে পলাতক অবস্থায় রয়েছে। সরকারের কাছে নিবেদন যত দ্রুত সম্ভব খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা।

মাত্র অল্প বয়সেই শেখ রাসেলের বিচক্ষণতা পরিবারের সবাইকে বিমোহিত করে তুলেছিল। সে কারণেই তথা পরিবারের কনিষ্ঠ হওয়ায় পরিবারের সকলের বিশেষ নজর ও ভালবাসা শেখ রাসেলের পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য করে তুলেছিল কিন্তু দুঃখ ছিল বাবার কারাবরণ। বঙ্গবন্ধু ও এ বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় আক্ষেপ করেছেন ছোট ছেলেটাকে সময় না দিতে পারার জন্য। ‘কারাগারের রোজনামচা ‘ শেখ রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছেন:

৮ই ফেব্রুয়ারি ২ বৎসরের ছেলেটা এসে বলে, “আব্বা বালি চলো।

কী উত্তর ওকে আমি দিব। ওকে ভোলাতে চেষ্টা করলাম ওতো বোঝে না আমি কারাবন্দী। ওকে বললাম:

তোমার মার বাড়ি তুমি যাও। আমি আমার বাড়ি থাকি। আবার আমাকে দেখতে এসো।

ও কি বুঝতে চায়! কি করে নিয়ে যাবে এই ছোট্ট ছেলেটা, ওর দুর্বল হাত দিয়ে মুক্ত করে এই পাষাণ প্রাচীর থেকে!

বঙ্গবন্ধুর বাসায় একটি পোষা কুকুর ছিল ‘ টমি ‘ নামে । টমির সবার ঙ্গে খুব বন্ধুত্ব ছিল । ছোট রাসেলও টমিকে নিয়ে খেলতো । একদিন খেলতে খেলতে হঠাৎ টমি ঘেউ ঘেউ করে দেকে ওঠে , তখন রাসেল ভয় পেয়ে যায় । কাঁদতে কাঁদতে রেহানার কাছে এসে বলে , টমি আমাকে বকা দিয়েছে । তার কথা শুনে বাসার সবাইতো হেসেই আত্মহারা । টমি আবার কিভাবে বকা দিলো । কিন্তু রাসেল বিষয়টা খুব গভীরভাবে নিয়েছিল । টমি তাকে বকা দিয়েছে এটা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না , কারণ টমিকে সে খুব ভালোবাসতো । হাতে করে খাবার দিত । নিজের পছন্দ মতো খাবার গুলোর টমিকে ভাগ করে দেবেই , কাজেই সেই টমি বকা দিলে রাসেল দুঃখ তো পাবেই ।

বাবার সঙ্গে একান্তে শিশু শেখ রাসেল
বাবার সঙ্গে একান্তে শিশু শেখ রাসেল

এরই মধ্যে জন্ম হয় শেখ হাসিনার পুত্র জয়ের । রাসেল জয়কে পেয়ে মহাখুশি । সে তার খেলার নতুন একসঙ্গে পেয়েছে । সারাটা সময় জুড়েই জয়ের সাথে মিশে থাকতো রাসেল । এরই মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় । কিন্তু রাসেল তার নিজেকে নিয়ে চিন্তা নেই , তার সমস্ত চিন্তা জয়কে নিয়ে । কারণ তাদের বাসার ছাদে বাংকারের মেশিন বসানো ছিল । ফলের দিনরাত গোলাগুলিতে প্রচন্ড আওয়াজ হতো আর তাতে শিশু জয় বারবার কেঁপে কেঁপে উঠতো । আর এ ব্যাপারে রাসেল খুবই সচেতন ছিল । যখনই সাই মেঘের মতো আওয়াজ হতো , রাসুল তুলে নিয়ে এসে জয়ের কানে গুজে দিতো । সব সময় পকেটে তুলে রাখত।

রাসেলের মাছ ধরার খুব শখ ছিল , কিন্তু সে মাছ ধরে আবার তা পুকুরে ছেড়ে দিত । এতেই সে মজা পেত । আসলেই এটা তার খেলা । বাজত বা আকাশে সুতরাং পরিশেষে বলা যায় যে , তার সকল প্রাণী তথা যার মনের ভাব মানুষ বুঝতে পারা বা না পারা এমন প্রাণীর প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসাই তাকে করেছে আমাদের সকলের বন্ধু।

বাবার সঙ্গে শেখ রাসেল [ Sheikh Mujibur Rahman and Sheikh Russel ]
বাবার সঙ্গে শেখ রাসেল [ Sheikh Mujibur Rahman and Sheikh Russel ]

উপসংহার

রাসেল তার বাবাকে কাছে পাবার সুযোগ খুব কমই হয়েছে , তাই বাবাকে যখনই কাছে পেতে সারাক্ষণ তার পাশে ঘোরাঘুরি করতো । খেলার ফাঁকে ফাঁকে বাবাকে এক পলকের জন্য হলেও দেখে আসতো । রাসেলের যদি শিশু বয়সে মৃত্যু না হতো তাহলে বঙ্গবন্ধুর মতো বাঙালি জাতির পিতা হিসেবে রাসেল স্থান পেত ।

সুতরাং রাসেলের বাল্য জীবন থেকে এই শিক্ষাই পেতে পারি যে , সে আমাদের ছিল প্রকৃত বন্ধু এবং বাঙালি জাতির মহানায়ক ।

আরও পড়ুন:

 

শেখ রাসেল ফটো গ্যালারি:

 

error: Content is protected !!